দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালে আইনজীবীর সহকারী (মহুরি) নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী নাছিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জেরে ঝগড়ার পর ঘুমন্ত নুরুজ্জামানের মাথায় শীল দিয়ে আঘাত এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
সোমবার ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাছিমাকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশ।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এয়ারপোর্ট থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।
পুলিশ জানায়, নুরুজ্জামান ও নাছিমার বিয়ে হয় ১৯৯৪ সালে। তাঁদের দুই সন্তান। ছেলে ইমন হোসেন (২৬) মালয়েশিয়ায় থাকেন। মেয়ে ইশরাত জাহান পপি (২৮) স্বামীকে নিয়ে ঢাকার ভাটারা এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে কর্মস্থল বরিশাল জেলা জজ আদালত থেকে বাসায় ফেরেন নুরুজ্জামান। ওই রাতে পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে নুরুজ্জামান স্ত্রীকে মারধর করে ঘুমিয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, নুরুজ্জামান ঘুমিয়ে পড়ার পর নাছিমা রান্নাঘর থেকে শীল এনে তার মাথার ডান পাশের ওপরের অংশে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাছিমা জানিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, নুরুজ্জামানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নাছিমা স্বামী-স্ত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোন, কিছু দলিলপত্র ও বাসার চাবি একটি ব্যাগে নেন। পরে তার বোনের মেয়ে খাদিজা বেগমকে ফোন করে এয়ারপোর্ট থানার বাঘিয়া এলাকার আবহাওয়া অফিসের সামনে আসতে বলেন। সেখানে খাদিজার কাছে ব্যাগটি রেখে সকালে আত্মসমর্পণ করার কথা জানান তিনি। এরপর নাছিমা আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর এয়ারপোর্ট থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি এয়ারপোর্ট থানার ১২ নম্বর মামলা। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাছিমার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে নাছিমার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যে আই